সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০০৯

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সকল ধরনের অনলাইন ফ্রিল্যান্সারদের একই প্লাটফরমে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে ফ্রিল্যান্স ফেস্ট (Freelance Fest) নামে একটি অনলাইন ফোরাম। ফোরামটি গঠন এবং পরিচালনা করছেন আমাদের দেশী কয়েকজন সফল ফ্রিল্যান্সার। ফোরামটির ঠিকানা হচ্ছে - www.FreelanceFest.com

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এ আগ্রহী যে কেউ এই ফোরামে অংশগ্রহণ করতে পারেন। ফোরামটি কেবলমাত্র বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য গঠন না করা প্রসঙ্গে একজন পরিচালকের বক্তব্য হচ্ছে,

ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এ একজন ফ্রিল্যান্সারকে বিভিন্ন দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সাথে প্রতিযোগীতা করে একটি বিড জিতে নিতে হয়। তাই আমরা যদি এই ফোরামে অন্যান্য দেশের ফ্রিল্যান্সারদেরকে নিয়ে আসতে পারি তাহলে সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য তাদের মনোভাব এবং অভিজ্ঞতা জানতে পারব। যা পরিশেষে আমাদের দেশী ফ্রিল্যান্সারদেরকেই প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করবে। তাই ফোরামটিতে এখনই রেজিষ্ট্রেশন করুন এবং ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত আপনার অভিজ্ঞতা, সমস্যা, সমাধান ইত্যাদি অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে শেয়ার করুন।

ফ্রিল্যান্স ফেস্ট ফোরামকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে, বিভাগগুলো হচ্ছে -
  • General: এই বিভাগে ফোরামের নিয়মকানুন, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপায়, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য সাধারণ বিষয় নিয়ে ফ্রিল্যান্সারা আলোচনা করতে পারবে।
  • Freelance Marketplace Supports: এই বিভাগকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বা পোর্টালের উপর ভিত্তি করে আলাদা ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই বিভাগে একটি অংশে ফ্রিল্যান্সারা তাদের পোর্টফোলিও এবং রেজ্যুমে সাবমিট করতে পারবে। কোন বায়ার বা ক্লায়েন্ট ইচ্ছে করলে এই বিভাগে কোন প্রজেক্ট পোস্ট করতে পারবে।
  • Project Supports: একটি প্রজেক্টের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে এই বিভাগকে প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট মার্কেটিং, গ্রাফিক্স, ডাটা এন্ট্রি, ব্লগিং, গুগল এডস্যান্স ইত্যাদি ভাগে সাজানো হয়েছে। কোন প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সমস্যা হলে ফ্রিল্যান্সাররা এই বিভাগগুলোতে তাদের সমস্যা বা সমাধান দিতে পারবে।
  • Resources: ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স এই বিভাগুলোতে পাওয়া যাবে।
জুমলা ডেভেলপারদের জন্য - জুমল্যান্সার্স

বর্তমান সময়ে জুমলা হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপারদের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয়। এটি দিয়ে একদিকে যেমন খুব সহজেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, অন্য দিকে জুমলা হতে পারে ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের প্রধান উৎস। প্রায় সকল ফ্রিল্যান্সিং সাইটেই জুমলার কাজ পাওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র জুমলা ডেভেলপারদের জন্য সম্পূর্ণ একটি ফ্রিল্যান্সিং পোর্টাল হচ্ছে জুমল্যান্সার্স। এই পর্বে জুমল্যান্সার্স সাইটের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আলোচনা করা হল।

জুমলা পরিচিতি:
জুমলা (Joomla) হচ্ছে একটি Content Management System বা CMS যা দিয়ে অনায়াসে যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট, কোন ধরনের প্রোগ্রামিং বা টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই তৈরি করা সম্ভব। সহজ ইন্টারফেস এবং নিজের ইচ্ছেমত এটিকে পরিবর্তন করে নেবার ক্ষমতা জুমলাকে একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট তৈরির সফটওয়্যারে পরিণত করেছে। সর্বোপরি জুমলা একটি উন্মুক্তসোর্স সফটওয়্যার যা জুমলার ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়। জুমলার সাইটের ঠিকানা হচ্ছে - www.joomla.org । জুমলা PHP এবং MySQL দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই জুমলা ইন্সটল করতে প্রথমে কম্পিউটারে এপাচি ওয়েব সার্ভার ইন্সটল করে নিতে হবে।

জুমলা দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে -

  • কর্পোরেট ওয়েবসাইট বা পোর্টাল
  • কর্পোরেট ইন্ট্রানেট এবং এক্ট্রানেট
  • অনলাইন ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনা
  • ই-কমার্স সাইট এবং অনলাইন রিজার্ভেশন
  • সরকারী বিভিন্ন সাইট
  • মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট
  • অলাভজনক এবং বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইট
  • কমিউনিটি নির্ভর পোর্টাল
  • বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট
  • ব্যক্তিগত বা পারিবারিক হোমপেইজ

জুমল্যান্সার্স সাইট পরিচিতি:
জুমলা দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে যারা অনলাইনে আয় করতে আগ্রহী, তাদের জন্য চমৎকার একটি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সাইট হচ্ছে - জুমল্যান্সার্স। সাইটটির ঠিকানা হচ্ছে - www.joomlancers.com । প্রতিদিন সাইটটিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ টি প্রজেক্ট পাওয়া যায়। সাইটে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বায়ার বা ক্লায়েন্ট এবং প্রায় ৭ হাজার জুমলা ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপার রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এই সাইটে কমিশন হিসেবে প্রতিটি প্রজেক্টের ২০% অর্থ কোডারকে পরিশোধ করতে হয়। সাইটের গোল্ড মেম্বারদেরকে কোন ফি পরিশোধ করতে হয় না। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী মাসে ১৫ টি বিড করতে পারবে, অন্যদিকে একজন গোল্ড মেম্বার মাসে ১৫০ টি বিড করতে পারে। গোল্ড মেম্বার হতে হলে প্রতি মাসে ৩০ ডলার করে পরিশোধ করতে হয়। তবে ৯৫ ডলার দিয়ে এক বছরের জন্য গোল্ড মেম্বার হওয়া যায়। সাইটিতে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য কোন ফি দিতে হয় না, উপরন্তু রেজিষ্ট্রেশন করার পর প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারকে ২ ডলার বোনাস প্রদান করা হয়।


জুমল্যান্সার্স যেভাবে কাজ করে:
জুমল্যান্সার্স সাইটটি অন্যান্য সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মতই কাজ করে -
১) প্রথমে বায়ার/ক্লায়েন্ট একটি নতুন প্রজেক্ট পোষ্ট করে।
২) ফ্রিল্যান্সারা ওই প্রজেক্টে বিড বা আবেদন করে।
৩) তাদের মধ্য থেকে বায়ার একজন ফ্রিল্যান্সারকে নির্বাচিত করে।
৪) এরপর বায়ার সাইটির Escrow একাউন্টে প্রজেক্টের সম্পূর্ণ টাকা জমা রাখে, যা কাজ সম্পন্ন হবার পর ফ্রিল্যান্সারকে টাকা পাবার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
৫) ফ্রিল্যান্সার তার কাজ শুরু করে এবং সম্পন্ন হবার পর বায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
৬) প্রজেক্ট সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে বায়ার কাজটি গ্রহণ করে এবং পরিশেষে Escrow থেকে টাকা ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে চলে আসে।

প্রজেক্টের প্রকারভেদ:
সাইটিতে Joomla ছাড়াও Drupal, osCommerce, Wordpress এর অল্প সংখ্যক কাজ পাওয়া যায়। সাইটের প্রথম পৃষ্ঠায় সর্বশেষ প্রজেক্টগুলো প্রদর্শন করা হয়। একটি প্রজেক্টে বায়ার তার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পারে। বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে -
  • Featured Project: এই ধরনের প্রজেক্টে একজন ফ্রিল্যান্সার তার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইমেইল ঠিকানা, ইন্সন্ট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার আইডি, ফোন নাম্বার ইত্যাদি বায়ারকে প্রদান করতে পারে। ফলে বায়ার প্রয়োজনে ফ্রিল্যান্সারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।
  • Gold Member Project: শুধুমাত্র গোল্ড মেম্বাররা এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করতে পারে।
  • Sponsored Project: এই ধরনের প্রজেক্টে বায়ার নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রদান করতে পারে।
  • Hide Bidding Project: এই ধরনের প্রজেক্টে একজন ফ্রিল্যান্সারের বিডের মূল্য অন্যরা দেখতে পায় না।
  • Nonpublic Project: এই ধরনের প্রজেক্টগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের স্পাইডার থেকে লুকিয়ে রাখা হয় এবং শুধুমাত্র লগইন করার পর প্রথম পৃষ্ঠায় দেখা যায়।
  • Private Project: এই ধরনের প্রজেক্টে কেবলমাত্র আমন্ত্রিত ফ্রিল্যান্সারাই বিড করতে পারে।
  • Location Project: বায়ারের ঠিক করে দেয়া দেশের ফ্রিল্যান্সাররাই এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করতে পারে।
  • Urgent Project: এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করার সময়সীমা হচ্ছে ৩ দিন।
একটি প্রজেক্টে বিড করার পদ্ধতি:
এই সাইটে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বিড করতে হয়। অর্থাৎ একজন ফ্রিল্যান্সারের বিডে উল্লেখিত মূল্য, সময় এবং মন্তব্য যে কেউ দেখতে পায়। তবে বায়ার ইচ্ছে করলে তথ্যগুলো গোপন রাখতে পারে। বিড উন্মুক্ত থাকলেও PM বা প্রাইভেট ম্যাসেজ অপশনের মাধ্যমে বায়ারের সাথে একান্তভাবে যোগাযোগ করা যায়। বিড করার জন্য প্রথমে সাইটে রেজিষ্ট্রেশন এবং লগইন করে নিতে হবে। একটি প্রজেক্ট পৃষ্ঠার নিচের অংশে বিড করার ফরম পাওয়া যায় যাতে আপনার বিডের মূল্য, প্রজেক্ট সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাব্য সময়, নিজের সম্পর্কে বর্ণনা, বায়ারের সাথে একান্তভাবে যোগাযোগ করার জন্য PM ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।

অর্থ উত্তোলনের উপায়সমূহ:
জুমল্যান্সার্স সাইট থেকে তিনটি পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করা যায়। প্রথম পদ্ধতি হচ্ছে Paypal - যা আমাদের দেশে সাপোর্ট করে না। দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে MoneyBookers - এটি দিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে জুমল্যান্সার্স সাইটকে ১ ডলার চার্জ দিতে হয়। পরবর্তীতে www.MoneyBookers.com সাইট থেকে আরেকটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে আপনার মাস্টার্ড কার্ড বা ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন। তৃতীয় পদ্ধতি হচ্ছে Wire Transfer - যা দিয়ে সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। এর জন্য খরচ পড়বে ৩৫ ডলার।

পরিশেষে:
জুমলা দিয়ে কোন রকম প্রোগ্রামিং ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হলেও নতুন কোন মডিউল বা ফিচার তৈরি করতে অবশ্যই আপনাকে প্রোগ্রামিং জানতে হবে। জুমল্যান্সার্স সাইটে জুমলা সেটাপ করা থেকে শুরু করে, টেম্পলেট ডিজাইন করা, মডিউল/প্লাগইনস তৈরি করা, কোড পরিবর্তন করা, অন্য একটি ওয়েবসাইটকে ক্লোন করা, জুমলার কনফিগারেশন পরিবর্তন করা ইত্যাদি কাজ পাওয়া যায়। অর্থাৎ জুমলার প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, ওয়েবমাস্টার - সবার জন্যই জুমল্যান্সার্স হতে পারে আদর্শ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।
Sep 01

ওডেস্ক হচ্ছে একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখানে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। এই মূহূর্তে ওডেস্কে চার হাজারের উপর কাজ রয়েছে। সাইটটিতে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য "একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য" হিসেবে অথবা "প্রতি ঘন্টা কাজের জন্য অর্থ" উভয় প্রকারের কাজ পাওয়া যায়। তবে ঘন্টা হিসেবে কাজের জন্য ওডেস্ক বেশি জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে কাজ করে তুলনামূলকভাবে অন্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো থেকে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। ওডেস্ককে আপনি একটি ভার্চুয়াল অফিসের সাথে তুলনা করতে পারেন, যেখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারনেটে উপস্থিত থেকে কাজ করবেন। ওই সময়ে আপনার কি কি কাজ করছেন তা আপনার চাকুরীদাতা (বায়ার) - এর কাছে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর স্কিনশটের মাধ্যমে রিপোর্ট পৌছে যাবে। আপনি যতক্ষণ কাজ করবেন ঠিক ততটুকু মূল্য আপনাকে পরিশোধ করা হবে। অতিরিক্ত সময় কাজ করলে তার মূল্যও আপনি পাবেন। কমিশন হিসেবে এই সাইটের চার্জ হচ্ছে মোট মূল্যের ১০%।

বর্তমানে ওডেস্ক আমাদের দেশী প্রোভাডারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাইটিতে এই মূহূর্তে এক হাজারের উপর বাংলাদেশী প্রভাইডার রেজিষ্ট্রেশন করেছেন যাদের মধ্য অনেকেই ৫০০ ঘন্টার উপর কাজ করে ওডেস্ক থেকে অর্থ উপার্জন করেছেন। সাইটে রয়েছেন ডাটা এন্ট্রে অপারেটর, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কনসাল্টেন্ট, প্রোগ্রামার, ওয়েবসাইট ডেভেলপার, লেখক ইত্যাদি পেশার বাংলাদেশী প্রোভাডার। আশা করা যায় বেকার সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের তরুন সমাজ ওডেস্কের মত সাইটগুলোকেই একসময় তাদের ভার্চুয়াল অফিস হিসেবে বাছাই করে নিবে।



ওডেস্কে একটি প্রজেক্টের বিবরণ:
সাইটে লগইন করার পর Find Jobs ট্যাব থেকে আপনার পছন্দের কাজের বিভাগে ক্লিক করুন। একটি প্রজেক্টের পৃষ্ঠায় প্রজেক্ট সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য থাকে। প্রজেক্টে কাজ করতে চাইলে আপনাকে প্রজেক্টিতে আবেদন করতে হবে। তবে সবকিছুর পূর্বে অবশ্যই আপনাকে Readiness Test দিয়ে তাতে উত্তীর্ণ হতে হবে। অনেক প্রজেক্টে আবেদন করতে বিভিন্ন টেস্টের সার্টিফিকেট আপনার থাকতে হবে। তাই যত বেশি টেস্ট দিবেন তত বেশি প্রজেক্টে আবেদন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বায়ার আপনাকে নির্বাচিত করলে আপনার কম্পিউটারে "oDesk Team" সফটওয়ারটি চালু করুন এবং লগইন করে কাজ শুরু করুন।

Aug 01

গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সার বা স্বাধীনভাবে যারা কাজ করে তাদের জন্য অনলাইনে সাক্ষাতের স্থান। এই সাইটে একজন ক্রেতা বা বায়ার প্রজেক্ট সাবমিট করে এবং একজন ফ্রিল্যান্সার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী সার্ভিস প্রদান করে। এই সাইটে একজন ফ্রিল্যান্সারকে বলা হয় 'প্রোভাইডার'। সাইটের কমিশন কম হওয়ায় এবং গোল্ড মেম্বার, ট্রায়াল প্রজেক্ট ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রতিদিন সারা পৃথিবীর অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার এই সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করছে। বর্তমানে এই সাইটে মোট ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা হচ্ছে ৭ লক্ষের উপরে। সাইটে প্রজেক্টের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়, প্রতিদিন বিভিন্ন বিভাগে অসংখ্য নতুন নতুন কাজ আছে। প্রতিদিন গড়ে ৩,০০০ কাজ এই সাইটে পাওয়া যাবে। প্রজেক্টের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ডাটা প্রসেসিং, কপিরাইটিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেট রিসার্চ, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ওয়েব প্রোমোশন ইত্যাদি। অর্থাৎ প্রায় সকল ধরনের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য এই সাইটে কাজ পাওয়া যায়।

টাকা উত্তোলনের উপায়সমূহ
গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার সাইট থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা উত্তোলন করা যায়। তার মধ্যে রয়েছে - Payoneer Debit Card, Moneybookers, Wire Transfer ইত্যাদি। টাকা উত্তোলনের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পেওনার ডেবিট কার্ডটি। সাইটে আপনার একাউন্টে ৩০ ডলার থাকলে আপনি এই কার্ডের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন। এরপর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই মাস্টারকার্ডটি আপনার ঠিকানায় পৌছে যাবে। এটি দিয়ে বিভিন্ন ব্যংকের ATM থেকে সরাসরি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।


গোল্ড মেম্বারদের জন্য সুবিধাসমূহ
গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার সাইটে ইউজারদের জন্য গোল্ড মেম্বার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু আছে। গোল্ড মেম্বার হতে আপনাকে প্রতি মাসে ১২ ডলার পরিশোধ করতে হবে। এর সুবিধাগুলো হচ্ছে -

  • প্রতি প্রজেক্ট শেষে সাইটকে কোন কমিশন প্রদান করতে হয় না। অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীকে প্রতি প্রজেক্টের মোট মূল্যের ১০% কমিশন হিসেবে দিতে হয়।
  • সাধারণ ব্যবহারকারী হলে আপনি মাসে ১৫ টির বেশি বিড করতে পারবেন না। অন্যদিকে গোল্ড মেম্বার হলে মাসে সর্বোচ্চ ১৬০ টি প্রজেক্টে বিড করতে পারবেন।
  • সাইটে অনেক প্রজেক্ট আছে যাতে শুধুমাত্র গোল্ড মেম্বারাই বিড করতে পারে।
  • গোল্ড মেম্বারদের নামের পাশে সবসময় একটি G চিহ্ন থাকে, যা তাদের গোল্ড মেম্বারশীপ প্রকাশ করে।
  • গোল্ড স্টেটাস থাকার কারনে গোল্ড মেম্বারদের অন্যদের চেয়ে প্রজেক্ট পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

নতুনদের জন্য ট্রায়াল প্রজেক্ট
গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার সাইটে 'ট্রায়াল প্রজেক্ট' নামে অনেক প্রজেক্ট পাওয়া যায় যাতে শুধুমাত্র একজন নতুন প্রোভাইডার বিড করতে পারে। ফলে এসব প্রজেক্টের মাধ্যমে নতুন ইউজাররা খুব সহজেই তাদের প্রথম কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তবে একটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করে বায়ারের রেটিং বা ফিডব্যাক পাবার পর আপনি আর কোন ট্রায়াল প্রজেক্টে বিড করতে পারবেন না। যেসব প্রজেক্টের নামের পাশে মানুষের ছবিযুক্ত আইকন থাকে, সেগুলো হচ্ছে ট্রায়াল প্রজেক্ট।

প্রোভাইডারদের জন্য কয়েকটি গাইডলাইন
  • একটি প্রজেক্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা না নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত নয়। বায়ার তাদের চাহিদা বিড রিকোয়েস্টের সাথে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ নাও করতে পারে। তাই যতটুকু সম্ভব তাদেরকে প্রশ্ন করুন। তারপর প্রজেক্টের রিকোয়ারমেন্ট আপনার নিজের ভাষায় বায়ারকে লিখে জানান। এতে বায়ারের চাহিদা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন এবং কাজ করার সময় আপনার পরিশ্রম অনেকখানি কমে যাবে। প্রশ্ন করলে বায়ার খুশি হয় এবং আপনার আগ্রহ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
  • একটি কাজ পাবার পর বায়ার সাধারণত Escrow নামক ফিচারের মাধ্যমে সাইটে প্রজেক্টের সম্পূর্ণ টাকা জমা রাখে। ফলে কাজ শেষে আপনার পাওনা টাকা সাথে সাথে পাবার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়। কোন কারনে টাকা জমা না রাখলে তাকে সাইটের Escrow তে টাকা জমা রাখতে অনুরোধ করুন।
  • সম্পূর্ণ কাজকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি ধাপ শেষ হবার পর পর বায়ারকে দেখান।
  • ডেডলাইন সময় শেষ হবার পূর্বেই সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করুন এবং বায়ারের কাছে পাঠিয়ে দিন।
  • বায়ারের কাছে কাজ পাঠানোর পূর্বে ভাল করে রিকোয়ারমেন্ট আরেকবার দেখে নিন এবং সম্পূর্ণ কাজ ভাল করে পরীক্ষা করুন।

রেন্ট-এ-কোডার হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস যেখানে প্রোগ্রামারদেরকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ করে দেয়। এই সাইটে প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইন, রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), গেম ডেভেলপমেন্ট সহ অসংখ্য ধরনের কাজ পাওয়া যায়। অতীতে কম্পিউটার ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের লোকাল বা আঞ্চলিক সার্ভিসের উপর নির্ভর করতে হত। এতে সার্ভিসের গুণগত মান ভাল হত না এবং আনেক ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ অনেক বেশি হত। বর্তমানে রেন্ট-এ-কোডারের মত সাইটগুলো আউটসোর্সিং-এর যে সুযোগ করে দিয়েছে তাতে ক্লায়েন্টরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করে তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভাল লোক দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারছে। অন্যদিকে প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, অপারেটর এবং অন্যান্য প্রোফেশনালরা তাদের ঘরে বসে বৈদিশিক মূদ্রা অর্জন করতে পারছে।

রেন্ট-এ-কোডারে দুই ধরনের ব্যবহারকারী আছে। যারা এই সাইটে প্রজেক্ট পোস্ট করে তাদেরকে বলা হয় বায়ার (Buyer) এবং যারা এই কাজগুলো সম্পন্ন করে তাদেরকে বলা হয় কোডার (Coder)। বলা বাহুল্য, এই সাইটে কোডার বলতে কেবলমাত্র প্রোগ্রামারই নয় বরং সকল ফ্রিল্যান্সারকেই বোঝায়। এ পর্যন্ত প্রায় ২,১৭,০০০ কোডার রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে।